নারী, সহজ প্রভাবিত হওয়া এবং আদর্শের গুরুত্ব
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
একদিন এক আত্মীয়ের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে একটি বিষয় নিয়ে ভাবনার জাল বুনতে শুরু করি। তিনি একজন কর্মঠ, পরিশ্রমী, এবং কাজের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক ব্যক্তির প্রশংসা করছিলেন। তবে সেই প্রশংসার মাঝেও দ্বিধা ছিল, কারণ সেই ব্যক্তি তার আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ—শাহবাগী, নাস্তিক এবং পটেনশিয়াল শাতিমে রাসুল। তবুও তার গুণাবলীর কারণে প্রশংসা আটকায়নি।
এই পরিস্থিতি আমাকে একটি বিষয় নিয়ে গভীর চিন্তা করতে বাধ্য করে। আমাদের সমাজে নারীদের বড় একটি অংশ (প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ) আদর্শ বা আইডিওলজি নিয়ে খুব বেশি সচেতন নয়। তারা ব্যক্তির গুণাবলী বা বাহ্যিক আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়, কিন্তু সেই ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি বা নৈতিক অবস্থান নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না।
এই বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে তাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। দাজ্জালের সময়ের কথা যদি আমরা হাদিসের আলোকে বিবেচনা করি, তবে দেখা যায়, দাজ্জালের মিরাকল এবং প্রতারণামূলক ক্ষমতা দেখে নারীরা সহজেই প্রভাবিত হবে। এমনকি তাদের পরিবার ও পুরুষ অভিভাবকরা তাদের দাজ্জালের প্রভাব থেকে আটকে রাখতে চাইলেও অনেক সময় তা সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, পুরুষদের মধ্যে আদর্শিক সচেতনতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে নৈতিক এবং আদর্শিক দিকগুলো বিবেচনায় নেয়। এজন্য সমাজের সচেতন পুরুষদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তাদের উচিত তাদের আশেপাশের নারীদের আদর্শিকভাবে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, যাতে তারা সঠিক-ভুল পার্থক্য করার সক্ষমতা অর্জন করে।
আমরা যদি বর্তমান সময়ের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই যে অনেকেই বাইরের চাকচিক্য বা বাহ্যিক গুণ দেখে প্রভাবিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। অথচ আদর্শই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। এটি না থাকলে কোনো গুণই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
উপসংহার:
সমাজের নারীদের উচিত আদর্শ এবং নৈতিকতার গুরুত্ব সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হওয়া। পাশাপাশি পুরুষদের উচিত এই বিষয়টিতে তাদের সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা। একমাত্র আদর্শিক শিক্ষা এবং আত্মবিশ্বাসই দাজ্জালের মতো প্রতারণামূলক চ্যালেঞ্জ থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ দেখাতে পারে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে আদর্শিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করি। আজকের সিদ্ধান্তই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষা
নিশ্চিত করবে।
✒️ Juhany
Comments
Post a Comment