মুসলিম আত্মপরিচয় ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে আপোষ নয়
এই দেশে আজ এমন এক বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে, যেখানে কেউ মুসলমান হিসেবে নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে কথা বললেই কিছু তথাকথিত প্রগতিশীল তাকে পাকিস্তানপন্থী বলে গালি দেয়। মুসলিম চেতনায় ফিরে যাওয়ার ডাক দিলেই তাদের চোখে আপনি হয়ে যান 'রেট্রোগ্রেড' বা 'রিগ্রেসিভ'। অথচ, এই রকম চিন্তাভাবনাই প্রকৃতপক্ষে এদেশীয় সংস্কৃতিকে একধরনের সাংস্কৃতিক দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমরা ভুলে যাইনি—১৯৭১ সালের যুদ্ধ কোনো একক পক্ষের নির্দয়তা বা মানবতাবাদের গল্প ছিল না। এদেশীয় কিছু এন্ডিয়ান এজেন্ট পরিকল্পিতভাবে বিহারী হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, আর পালটা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালায় নিরীহ বাঙালিদের ওপর। দুই পক্ষই নিজেদের দোষ ঢাকতে ইতিহাসকে বিকৃত করেছে, আর এই বিকৃত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিকার—আমাদের প্রজন্ম।
হ্যাঁ, দেশটা আলাদা হয়েছে। এই ভৌগোলিক বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। কিন্তু এই বিভাজনের মধ্যে আমরা যা হারিয়েছি, তা শুধু একটা ভূখণ্ড বা পরমাণু শক্তির সম্ভাবনা নয়—আমরা হারিয়েছি একটি বৃহত্তর মুসলিম পরিচয়ের অন্তর্গত হওয়ার সুযোগ, হারিয়েছি উর্দুর মতো একটি ভাষার সঙ্গে আত্মিক সংযোগ, হারিয়েছি এক বৈশ্বিক কণ্ঠস্বরের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা।
আর সবচেয়ে করুণ ব্যাপার হলো, আমাদের মুসলমানিত্বকে ধীরে ধীরে এমনভাবে প্রান্তিক করে ফেলা হয়েছে, যেন তা শুধু নামাজ-রোজার ব্যক্তিগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রাষ্ট্র, সংস্কৃতি, শিক্ষা—সব জায়গা থেকে ইসলামী চেতনা কৌশলে মুছে ফেলা হয়েছে। আমরা এমন এক সামাজিক কাঠামোতে বন্দী হয়ে পড়েছি, যেখানে ধর্ম মানেই পশ্চাৎপদতা, আর পশ্চিমা অনুকরণই নাকি প্রগতি!
কিন্তু আমাদের এই অপমান গিলে ফেলার সময় শেষ। আমাদের এই ভোতা জাতিসত্তার মুখোশ ছিঁড়ে ফেলতে হবে। কারণ, এদেশের মানুষ প্রকৃতপক্ষে দুর্বল নয়। তারা শুধু নেতৃত্বের অভাবে বিভ্রান্ত। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—একটি আদর্শ, একটি লক্ষ্য, একটি পতাকা—এলেই মানুষ জেগে উঠে। ইনশাআল্লাহ, এবারও জেগে উঠবে।
আমাদের সামনে এখন দুটি মূল চ্যালেঞ্জ: ১. আমাদের মুসলিম পরিচয় পুনরুদ্ধার করা,
২. দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা—যেকোনো মূল্যে।
এই দুটোই আমাদের বাঁচার কারণ। এর বাইরে কোনো আদর্শ, কোনো দল, কোনো শক্তি আমাদের মুক্তি দিতে পারবে না।
📝--- Juhany
07.08.2022
Comments
Post a Comment