রাজাকার, জামায়াত ও ইতিহাস বিকৃতি: ৫৪ বছরের ভুল ধারণার বিশ্লেষণ

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়জুড়ে “রাজাকার” শব্দটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন রাজাকার মানেই জামায়াতের নেতাকর্মী। দাঁড়ি-টুপি, জামায়াত—সবই এক ফ্রেমে আঁটা হয়েছে। কিন্তু গবেষণা ও প্রামাণ্য তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।


রাজাকার বাহিনীর প্রকৃত গঠন


রাজাকার বাহিনী ছিল পাকিস্তান সরকারের অধীন একটি প্যারামিলিটারি ফোর্স, অনেকটা বর্তমান আনসার বাহিনীর মতো। এই বাহিনীর মূল কাঠামো গড়ে উঠেছিল—


মুসলিম লীগের নেতাকর্মী


মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন (স্টুডেন্টস উইং)

এই দু’য়ের সমন্বয়ে।



অন্য দলের কেউ ছিল না—এটা বলা হচ্ছে না। কিন্তু রাজাকার বাহিনী মূলত মুসলিম লীগ কেন্দ্রিক ছিল, এটি একটি পরিষ্কার তথ্য।


৭১–এর অপরাধ এবং দায় কার?


১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধের  অভিযোগও ওঠে এই রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে—যা মুসলিম লীগ প্রধান দল হিসেবে পরিচালনা করত।


অথচ ইতিহাসের বর্ণনায় বহু বছর ধরে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যেন এই সব অপরাধের দায় শুধুই জামায়াতের।


জামায়াত কি তখন এত বড় শক্তি ছিল?


এখানে কয়েকটি কঠিন তথ্য বিবেচনা করা জরুরি—


মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতের দুই লাখ সদস্যও ছিল কি না—সেটা নিয়েই প্রশ্ন।


পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের আসনসংখ্যা নগণ্য—তাদের অজনপ্রিয়তার প্রমাণ।


একটি অজনপ্রিয় দলের পক্ষে “লাখো নেতাকর্মী দিয়ে” একটি বৃহৎ অপরাধযন্ত্র পরিচালনা করা বাস্তবে অসম্ভব।



তাই ৩০ লাখ নিহত ও ২ লাখ নারী ধর্ষণের দায় শুধু জামায়াতের ঘাড়ে চাপানো সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি


গত ৫৪ বছর ধরে এমনভাবে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে যেন— রাজাকার = জামায়াত = ধর্মীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী।

এর ফলে মূল দায়ী পক্ষ মুসলিম লীগের নাম জন-চর্চা থেকে প্রায় হারিয়েই গেছে।


শেষ কথাঃ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন


১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান ভারতবিরোধী লড়াইয়ে এক ছিল।

কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১৯৭১ সালে তারা নিজেরাই কেন নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াল?


এই প্রশ্নের উত্তরই পুরো রাজনৈতিক—

আর সেই উত্তরের ভে

তরেই লুকিয়ে আছে কেন ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে।




©Juhany 

Comments